একজন শিক্ষার্থী যদি স্কুল থাকা অবস্থায় তাঁর পরিবার অথবা শিক্ষক কে বলে সে পড়াশুনার পাশাপাশি ডিবেট করবে / বিজ্ঞান ক্লাবে কাজ করবে অথবা প্রোগ্রামিং শিখবে; স্বাভাবিক ভাবেই তাঁর পরিবার অথবা শিক্ষক তাঁকে উৎসাহ দিবে এই কাজ গুলো করার জন্য । কিন্তু যে পরিবার/ শিক্ষক "আগে ভালো করে পড়াশুনা করো , পরে এই সব দেখা যাবে "অথবা "এমনিতেই তো পড়াশুনা করো না , আবার এগুলা করলে তো আর পরীক্ষা ই ভালো ফলাফল করতে পারবে না। "-- এই টাইপ কথার জালে সেই শিক্ষার্থীকে থামিয়ে দেয় তাঁদের চিন্তার জগত যে বড়ই অপরিপক্ক অথবা চিন্তার জগত "ভয়" দিয়ে পরিপূর্ণ সেটা হয়তো এতো ভেবে বলতে হয় না। হয়তো অপরিপক্বতার থেকে ভয় টাই বেশি মুখ্য। একটি সাজানো গোছানো জীবন , সন্তান ভালো রেজাল্ট করবে, তারপর ভালো চাকরী করে সংসার সংগ্রামে জয়ী হবে-এই লাইফ সার্কেল অন্য কিছুর থেকে বেশি সিকিউর। আদৌ কি তাই?
যে শিক্ষক পড়াশুনার ব্যঘাত ঘটবে বলে তাঁর ক্লাসে প্রতিদিন একই বুলি আওরাই নির্দ্বিধায় অথবা ভালো রেজাল্ট এর ঘেরা টোপে শিক্ষার্থীর চিন্তা ও বিচরনের জগতে দেয়াল তুলে দেন নিঃসংকোচে তাঁর ই বা এতো কিছের ভয়?
"এখন না , আগে ভালো করে পড়ো"।"এখন এগুলা করলে পড়াশুনার ক্ষতি হবে"। স্কুল পড়ুয়াদের কাছে এই কথা গুলো খুব ই কমন। আসলে আমরা যুগ যুগ ধরে পড়াশুনার পাশাপাশি অন্য কিছু করা কে একে অন্যের বিরোধী করে প্রতীয়মান করেছি নিদারুণ ভাবে। "ডিবেট, ক্লাবিং অথবা নতুন কিছু করলে পড়াশুনা তে সময় দিতে পারবে না/পড়াশুনার ক্ষতি হবে "। আসলেই কি সময় এখানে বাধা? ন
শিক্ষার্থী টা ডিবেট , ক্লাবিং করে একবারে রসাতলে গেছে , রেজাল্ট খারাপ, সারাদিন কি যে সব করে। ধ্রুন, একজন শিক্ষার্থী বিজ্ঞান ক্লাবে জয়েন করার পর থেকে সারাদিন এগুলা নিয়ে পরে থাকে, ক্লাসের পড়াশুনা র প্রতি আগ্রহ কমে গেল। ফলাফল তাঁর রেজাল্ট খারাপ। এর পিছনে আসলে কারণ টা কি?
কেন জানি মনে হয় শিক্ষার্থীরা যখন বিভিন্ন ক্লাব এর সাথে জড়িত হয় অথবা নিজে অন্য কিছু করে , তখন তাঁরা যেমন শিখতে পারে , পাশাপাশি বাস্তবে সেই জ্ঞানের প্রয়োগ করতে পারে। এই জন্য তাঁরা সেখানে বেশি আগ্রহ বোধ করে। তাঁর ক্লাস রুমের ধরাবাধা পড়াশুনা , এক ঘেয়েমি লেকচার , না বুঝে মুখস্ত করার অপকৌশল এই সব কিছুর সাথে তুলনা করতে থাকে। তখন সে ক্লাসের দিকে অমনোযোগী হয়ে পরে। আর আমরা ভাবি , কি সব ক্লাবিং করে রসাতলে চলে গেল ।
তাই হয়তো অনেক শিক্ষক বিভিন্ন ক্লাবিং এর প্রতি বিরুপ ধারনা পোষণ করেন আদৌতে তাঁদের ব্যর্থতা কে লুকিয়ে রাখার জন্য। অনেক কিছু হয়তো বাস্তবে প্রয়োগ করা সম্ভব হয় না , কিন্তু শিক্ষক চাইলে তা ভিজুয়ালাইজ করাতে পারেন শিক্ষার্থীকে। জ্ঞানের বাস্তবিক প্রয়োগ দেখাতে পারেন। এক্সপেরিমেন্ট এ উৎসাহ দিতে পারেন। তবেই না শিক্ষার্থী ক্লাসমুখী হবে। আমাদের ভয় এখানেই , আমারা পারি না বলে , অন্যকে কিছু করতে দেই না। আমরা জানি না বলে , অন্যর জানার আগ্রহ কে অনুৎসাহিত করি। আমাদের ব্যর্থতা ঢাকার জন্য , মিথ্যা দেয়াল তুলি। আর চোখ ঢেকে বলি , আমাকে কেও দেখছে না।
Comments
Post a Comment